preloader_image
Blog

কুসুম গরম পানি! উপকারিতা ও অপকারিতা

Dr Zainal Abedin Jewel 15 Oct, 2026 89 Views Last Updated: 15-10-2026 12:17 PM

শীতের এই হিমেল ঋতুতে গরম পানির ব্যবহার বেড়ে যায়। শরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, অজু-গোসল করা কিংবা খাবার পানি পান করার ক্ষেত্রে গরম পানি অনেকেরই পছন্দ। কিন্তু মেডিকেল সায়েন্স অনুযায়ী কুসুম গরম পানি বলতে আমরা কী বুঝি, যা স্বাস্থ্যসম্মত, আরামদায়ক এবং শরীর ও ত্বকের জন্য নিরাপদ?

আসলে ত্বক আমাদের প্রাকৃতিক থার্মোমিটার হিসেবে কাজ করে। শীতকালে অথবা গরমকালে পারিপার্শ্বিক আবহাওয়ার তাপমাত্রা আমাদের শরীর সার্বক্ষণিক মেপে চলে।

সরল ভাষায়, যখন শরীর থেকে শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপের তুলনায় বেশি তাপ হারায়, তখন আমরা ঠান্ডা অনুভব করি। যখন স্বাভাবিক মাত্রায় তাপ হারায়, তখন আমরা আরামদায়ক অনুভূতি বোধ করি। আর পরিবেশের তাপমাত্রা আমাদের শরীরের তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হলে আমরা গরম অনুভব করি।

ব্যবহারের পানি কুসুম গরমের চেয়ে বেশি গরম হলে চামড়ার উপকারী তৈলাক্ত আস্তরণ ধুয়ে যায়। এতে ত্বকের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হতে পারে। অন্যদিকে সার্বক্ষণিকভাবে গরম পানি পান করলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে প্রধানত গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য উল্লেখযোগ্য। ক্ষেত্রবিশেষে মুখ্য খাদ্যনালী পুড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।

বর্তমানে বাজারে কিচেন থার্মোমিটার নামে এক ধরনের থার্মোমিটার পাওয়া যায়। এটি ব্যবহার করে সঠিক তাপমাত্রার কুসুম গরম বা ঈষদুষ্ণ পানি তৈরি করে ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে আমরা অনেকেই কুসুম গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানি না। অথচ এই সাধারণ অভ্যাসটি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

আপনি যদি দীর্ঘদিন ধরে হজমের সমস্যায় ভুগে থাকেন, তবে কুসুম গরম পানি পান করতে পারেন। কুসুম গরম পানি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যার সহজ সমাধান হতে পারে কয়েক গ্লাস কুসুম গরম পানি।

পুষ্টিবিদদের মতে, গরম পানি পান করলে পেট পরিষ্কার থাকে। পেট পরিষ্কার থাকলে শরীরে রোগ সহজে বাসা বাঁধতে পারে না।

পেট পরিষ্কার থাকলে ত্বকও ঝকঝকে ও উজ্জ্বল থাকে। প্রতিদিন সকালে, খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে বা পরে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করলে বদহজম, অম্বলসহ বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

এছাড়া শরীর দ্রুত ডিটক্স হতে সাহায্য করে। ত্বকে জমে থাকা তেল, ধুলোবালি ও ময়লা দূর করতেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পেট পরিষ্কার থাকলে ব্রণ-ফুসকুড়ির সমস্যাও তুলনামূলক কম দেখা যায়।

কুসুম গরম পানির তাপমাত্রা কত?

৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে পানির তাপমাত্রা হলে আমরা সেই পানিকে ঠান্ডা পানি বলি।

৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (প্রায় ৯০ থেকে ৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত তাপমাত্রার পানিকে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি বলা হয়।

৯৯ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার পানিকে সাধারণত কুসুম গরম বা ঈষদুষ্ণ পানি বলা হয়।

আসুন, এই শীতে সঠিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করে আরামদায়ক জীবনযাপন করি, সুস্বাস্থ্য রক্ষা করি এবং ত্বকের সঠিক যত্ন নিই। একই সঙ্গে বিভিন্ন মেডিকেল ও অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করি, বাড়তি জ্বালানি খরচ কমাই এবং পরিবেশ দূষণ হ্রাসে ভূমিকা রাখি।

Top